Advertisements

জাফরান এর দাম বাংলাদেশে | জাফরান এর দাম

Advertisements
Rate this post

জাফরান, যার ইংরেজি নাম স্যাফরন। এর আরো একটি নাম কুমকুম। জাফরান উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম ক্রোকাস স্যাটিভাস (Crocus sativus)। অত্যন্ত মূল্যবান হওয়ায় জাফরানকে বাণিজ্যিক অঙ্গনে বলা হয় লাল সোনা (রেড গোল্ড)।

এই উদ্ভিদ বেশি জন্মে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে। সবচেয়ে বেশি চাষ হয় স্পেনে বাণিজ্যিকভাবে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জাফরান উৎপাদন হয় স্পেনে। দেশটি বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ ভাগ জাফরান রপ্তানি করে থাকে। এ ছাড়াও আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, ইরান ও চীনে জাফরান চাষ হয়।

জাফরান ফুল দেখতে যেমন আকর্ষনীয় তেমনি আকর্ষনীয় এর সুগন্ধ। এই উদ্ভিদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর কোন বীজ হয় না। বিস্ময়ের ব্যাপার যে, এর ফুল হয় অথচ বীজ হয় না । আর বীজ না হওয়ার কারণ হচ্ছে এই উদ্ভিদের দেহে কোন মিয়োসিস কোষ বিভাজন হয় না। আমরা জানি যে, পুং রেণু আর স্ত্রী রেণু তৈরি হয় মিয়োসিস কোষ বিভাজন দ্বারা। যেহেতু জাফরান উদ্ভিদের দেহে কখনই মিয়োসিস বিভাজন হয় না সেহেতু পুং রেণু ও স্ত্রী রেণুও তৈরি হয় না। পুং রেণু ও স্ত্রী রেণুর মিলনেই বীজ তৈরি হয়। এই উদ্ভিদে পুং রেণু ও স্ত্রী রেণু সৃষ্টি হয় না বিধায় বীজও হয় না।

তাহলে বীজ ছাড়া নতুন উদ্ভিদ জন্ম নেয় কী ভাবে? আর এই জন্ম প্রক্রিয়ার জন্যই এরা এত মূল্যবান। বংশ বিস্তারের জন্য এরা মানুষের সাহায্যের উপর নির্ভর করে। চার বছর পর পর একটি জাফরান উদ্ভিদের মূলে টিউবার তথা বালব সৃষ্টি হয়। বালবের অন্য নাম ক্রোম। অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা খুব সাবধানে এই বালব সংগ্রহ করে তা রোপন করেন যা থেকে পরবর্তী সময়ে নতুন জাফরান উদ্ভিদের জন্ম হয়। এ গাছ লম্বায় প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার হয়। রোপনের প্রথম বছর সাধারণত গাছে ফুল আসে না। একটি গাছ পরপর তিন থেকে চার বছর ফুল দেয়। জাফরান চাষ ব্যয়বহুল ও অত্যন্ত ধৈর্য্যের কাজ বিধায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ এর চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

এটি বহুমূল্য হওয়ার আরো একটি কারণ আছে। এই উদ্ভিদ থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান মসলা উৎপাদন করা হয়। এই মসলার নামও জাফরান। এটা কত মূল্যবান তা বোঝা যায় এর দাম শুনলেই। ১ কেজি জাফরানের গড় দাম বাংলাদেশী মূদ্রায় প্রায় চার লাখ টাকা । ৪৫০ গ্রাম জাফরান তৈরির জন্য প্রায় ৭৫ হাজার ফুল প্রয়োজন।

জাফরান ফুলে লাল বর্ণের তিনটি গর্ভদণ্ড থাকে। এগুলোকে ইংরেজিতে বলে স্টিগমা। এই গর্ভদণ্ড সংগ্রহ করে শুকিয়ে জাফরান প্রস্তুত করা হয়। সত্যিই বড় অদ্ভুত আমাদের প্রকৃতি। আমাদের দেশে জাফরান মূলত: ব্যবহার হয় জরদা নামের মিষ্টান্ন ও পায়েস তৈরিতে। বিরিয়ানির সুন্দর রঙ আনার জন্যও জাফরান ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়াও জাফরান দিয়ে প্রস্তুত করা হয় জাফরান কালি। এই জাফরান কালি ব্যবহার করা হয় আরবী লেখার ক্ষেত্রে। মৌলভী ও ইমামগণ জাফরান কালি দিয়ে পাত্রে আরবীতে দোয়া লিখে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দিয়ে থাকেন। এই কালি ধোয়া পানি রোগী পান করে থাকেন।

জাফরান এর দাম বাংলাদেশে
জাফরান এর দাম বাংলাদেশে

জাফরান কেনার সময় ক্রেতাদের অনেক ক্ষেত্রে ঠকিয়ে দেন বিক্রেতারা। কারণ, বাজারে নকল জাফরান বিক্রি হয়। কুসুম নামের ফুলের পাপড়ি দিয়ে নকল জাফরান তৈরি করা হয়। কুসুম ফুল থেকে তৈরি গুড়ার রঙ লাল টকটকে হওয়ার কারণে নকল আর আসল জাফরানের পার্থক্য করা মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। জাফরান কেনার সময় ক্রেতাকে অবশ্যই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। বাড়ির আঙিনায়, সবজি বাগানে বা ছাদে বা কিছু সংখ্যক জাফরান গাছ লাগিয়ে নিজেই উৎপাদন করতে পারলে সবচেয়ে ভাল । আমাদের বাংলাদেশে যে আবহাওয়া তা জাফরান চাষের জন্য অনুকূল বলেই মনে করেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদরা। ইতিমধ্যেই কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের উদ্যোগে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, রংপুর, খুলনা ও বান্দরবানে কিছু এলাকায় জাফরান চাষ স্বল্প পরিসরে শুরু হয়েছে।

জাফরানের দাম কত বাংলাদেশে?

১ কেজি জাফরানের গড় দাম বাংলাদেশী মূদ্রায় প্রায় চার লাখ টাকা । ৪৫০ গ্রাম জাফরান তৈরির জন্য প্রায় ৭৫ হাজার ফুল প্রয়োজন।

জাফরান কি?

জাফরান, যার ইংরেজি নাম স্যাফরন। এর আরো একটি নাম কুমকুম। জাফরান উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম ক্রোকাস স্যাটিভাস (Crocus sativus)। অত্যন্ত মূল্যবান হওয়ায় জাফরানকে বাণিজ্যিক অঙ্গনে বলা হয় লাল সোনা (রেড গোল্ড)।

জাফরান কি কি কাজে লাগে?

জাফরান দিয়ে প্রস্তুত করা হয় জাফরান কালি। এই জাফরান কালি ব্যবহার করা হয় আরবী লেখার ক্ষেত্রে। মৌলভী ও ইমামগণ জাফরান কালি দিয়ে পাত্রে আরবীতে দোয়া লিখে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দিয়ে থাকেন। এই কালি ধোয়া পানি রোগী পান করে থাকেন।

জাফরান বাংলাদেশের কোথায় চাষ হয়?

ইতিমধ্যেই কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের উদ্যোগে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, রংপুর, খুলনা ও বান্দরবানে কিছু এলাকায় জাফরান চাষ স্বল্প পরিসরে শুরু হয়েছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *